দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের এক সাঁড়াশি অভিযানে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এই অভিযানে সরকারি কোষাগারের ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
জেলা সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ বুলু মিয়া-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই আকস্মিক অভিযানে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৪৭টি প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, প্রকল্পগুলোর বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ নিয়মবহির্ভূতভাবে খরচ করা হয়েছে। এমনও অনেক প্রকল্পের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেগুলো শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল, বাস্তবে সেগুলোর কোনো কাজই হয়নি।
দুদকের তদন্ত দল প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ফাইল, বিল-ভাউচার এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে। এতে স্পষ্ট হয় যে, অনেক ক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল তোলা হয়েছে এবং মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এছাড়াও, বেশ কিছু ভুয়া প্রকল্পের নামে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ বুলু মিয়া সাংবাদিকদের জানান, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরকারি অর্থের প্রতিটি পয়সার হিসাব নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের এই আর্থিক অনিয়মের ঘটনা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে এমন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই অভিযান প্রমাণ করে যে, দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও এমন অভিযান পরিচালিত হবে বলে আশা করা যায়।